তরকারীতে ঝাল কমানোর গোপন টিপস
তরকারিতে ঝাল কমানোর উপায় বা পদ্ধতি
আমরা বাঙালি বেশিরভাগ সময় ভাত এবং তরকারি খেয়ে থাকি । আমরা ভাত তরকারি খেতে বেশি পছন্দ করি । আমাদের তিন বেলা খাবারের মধ্যে দুই বেলা ভাত তরকারি খেয়ে থাকি । তাই এই তরকারি যদি স্বাদমতো না হয় তাহলে খাওয়া যায় না ।
তরকারি আমরা সব সময় সুস্বাদু করে রান্না করার চেষ্টা করি । কিন্তু অনেক সময়
ঝাল লবণ কম বা বেশি হয়ে যায় । কম হয়ে গেলে কোন সমস্যা নেই, আবার একটু ঝাল বা লবণ
দিয়ে ঠিক করা যায় । কিন্তু বেশি হলে খাওয়া যায় না । তাই বেশি হলে কি করব তা
নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব ।
পেজ সূচিপত্র ঃ তরকারিতে ঝাল কমানোর উপায় নিয়ে আজ আমরা যে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা হল
- ঝাল খাওয়া ক্ষতি কি ?
- লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন
- টক দই ব্যবহার করতে পারেন
- আলু বা টমেটো ব্যবহার করতে পারেন
- দুধ ব্যবহার করতে পারেন
- লবণ ব্যবহার করতে পারেন
- ঘি, মাখন বা চিনি ব্যবহার
- পানি ব্যবহার করতে পারেন
- ঝাল কি সবাই খেতে পারে ?
- কিছু ঝাল রেসিপি
- শেষ কথা
ঝাল খাওয়া ক্ষতি কি ?
আমরা তরকারিতে বিভিন্ন মসলা খেয়ে থাকি । যেমন ঝাল, লবণ, টক ইত্যাদি । আমাদের
শরীরে প্রতিটা জিনিসেরই প্রয়োজন রয়েছে । প্রতিটি মসলার প্রয়োজন রয়েছে ।
কিন্তু সবকিছুই পরিমাণ মতো খেতে হবে । কম খাওয়া ভালো তো বেশি খাওয়া ভালো না ।
কারণ বেশি খেলে আমাদের শরীরে নানা প্রকারের রোগ বাসা বাঁধবে ।
ঠিক তেমনিভাবে ঝাল বেশি খাওয়া অনেক ক্ষতি । তাই আমরা ঝাল সীমিত পরিমাণে খাব । যে
পরিমান খেলে কোন প্রকার ক্ষতি হবে না, সেই পরিমান খেতে হবে । ঝাল বেশি খেলে অনেক
রকমের সমস্যা হয়, যেমন আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি ধরনের সমস্যা হয়ে
থাকে । তাই রোগবালাই থেকে দূরে থাকতে আমরা ঝাল কম খাওয়ার চেষ্টা করব ।
লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন
তরকারিতে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী বা আমাদের স্বাদমতো ঝাল খেয়ে থাকি । এই ঝাল কম
হলেও খাওয়া যায় না, আবার বেশি খাওয়া ভালো নয় । বেশি খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগ
বালাই বা সমস্যা হয়ে থাকে । তাই তরকারিতে ঝাল বেশি হলে, আমরা সেখানে লেবুর
রস ব্যবহার করতে পারি । কারণ লেবুর রস টক, আর টক ঝাল কমাতে সাহায্য করে ।
লেবু মানে হল কাগজি লেবু । অর্থাৎ যে লেবু আমরা ভাত বা শরবতে খেয়ে থাকি, সেই
লেবু । লেবুর রস চিপে বের করে আমরা তরকারিতে ব্যবহার করতে পারি । এই
কাজটি লেবুর রস যদি আমরা তরকারিতে ব্যবহার করি, তাহলে তরকারি ঝাল কমে যাবে এবং
খেতে ভালো লাগবে । তাই যদি কখনো হঠাৎ করে তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে যায় তবে আমরা
লেবু ব্যবহার করতে পারি ।
টক দই ব্যবহার করতে পারেন
তরকারিতে ঝাল কমানোর যে সকল উপায় রয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে টক দই
ব্যবহার করা । টক দই খুবই প্রয়োজনীয় একটি খাবার । এই টক দই এমনি খেলে শরীরের ওজন
কমে । বিভিন্ন সমস্যার কারণে ডাক্তাররা টক দই খেতে বলে । এমনিতেও টক দই আমরা
বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করে থাকি । তাই ঝাল কমানোর জন্য আমি রান্নায় টক দই
ব্যবহার করতে পারি ।
আরও পড়ুন ঃ ঝাল কমানোর আরো নতুন পদ্ধতি
তাই ঝাল কমানোর জন্য আমরা যেগুলো ভুনা জাতীয় খাবার, অর্থাৎ ঝোল থাকে না,
এমন জাতীয় তরকারিতে টক দই ব্যবহার করতে পারেন । সেক্ষেত্রে দেখবেন ঝাল অনেকটাই
কমে এসেছে । তাই ভুনা জাতীয় তরকারিতে ঝাল কমানোর জন্য আপনি টক দই ব্যবহার করতে
পারেন । এতে ঝাল কমে যাবে এবং তরকারির স্বাদও বেড়ে যাবে ।
আলু বা টমেটো ব্যবহার করতে পারেন
তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে যাওয়ার ফলে, ঝাল কমানোর জন্য যে সকল পদ্ধতি রয়েছে, তার
মধ্যে একটি হচ্ছে আলু বা টমেটো ব্যবহার করা । ঝোল জাতীয় তরকারিতে যখন ঝাল বেশি
হয়ে যায়, তখন সেই তরকারির মধ্যে যদি আলু বা টমেটো কেটে দেন, তাহলে দেখবেন ঝাল
অনেকটাই কমে গেছে । তাই ঝাল কমানোর জন্য আপনি এই পদ্ধতিটা ব্যবহার করতে পারেন
।
অনেক এমন তরকারি রয়েছে যেখানে আপনি পাকা টমেটো কেটে দিতে পারেন । আবার এমন অনেক
তরকারি রয়েছে যেটাতে আপনি টমেটোর ক্যাচাপ যেটা পাওয়া যায়, সেটাও ব্যবহার করতে
পারেন । সেক্ষেত্রেও ঝাল অনেকটাই কমে যাবে এবং স্বাদ বেড়ে যাবে । তাই ঝাল কমানোর
জন্য আপনি এই পদ্ধতিটা ব্যবহার করতে পারেন ।
দুধ ব্যবহার করতে পারেন
এমন অনেক তরকারি রয়েছে যেগুলোতে আমরা দুধ ব্যবহার করে থাকি । দুধ আমরা পুষ্টির
জন্য এমনি খায় । আবার দুধের সঙ্গে অনেক কিছু মিশিয়ে খায় । যেমন
খেজুর, মধু, বাদাম ইত্যাদি মিশেও খায় ।যাই হোক দুধ আমরা বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকি
। আবার এই দুধ তরকারিতে ঝাল কমানোর জন্য ব্যবহার করা যায় ।
এমন অনেক খাবার রয়েছে, যেমন বিরিয়ানি, রোস্ট, পোলাও ইত্যাদি খাবারে আমরা
দুধ ব্যবহার করে থাকি । কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে যদি ঝাল বেশি হয়ে যায়, সে
ক্ষেত্রে আমরা দুধ ব্যবহার করতে পারি । কারণ দুধ মিষ্টি জাতীয় খাবার । তাই
তরকারিতে দুধ ব্যবহার করলে ঝালের পরিমাণ কমে আসবে এবং খেতেও সুস্বাদু লাগবে ।
কারণ দুধ একটি পুষ্টিকর খাবার ।
লবণ ব্যবহার করতে পারেন
লবণ এমন একটি খাবার যা বেশি হলেও খাওয়া যায় না, আবার কম হলেও খাওয়া যায় না ।
ঠিক ঝালের মত একটি খাবার । তাই অনেক সময় তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে গেলে, আপনি
কিছুটা পরিমাণ লবণ দিতে পারেন । এক্ষেত্রে ঝাল একটু কম লাগবে । কারণ ঝাল এবং
লবণের একটা কম্বিনেশন রয়েছে ।
অনেক ক্ষেত্রেই এরকম হয়ে থাকে যে, তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে আপনি
যদি একটু লবণ ব্যবহার করেন, তাহলে দেখবেন ঝাল কমে গেছে । লবণও ঠিক ঝালের মত কম
পরিমাণে খেতে হয় । বেশি খেলে অনেক ধরনের সমস্যা বা রোগ বালাই হতে পারে । তাই
শরীর সুস্থ রাখতে ঝাল এবং লবণ আমরা পরিমাণমতো খাব ।
ঘি, মাখন বা চিনি ব্যবহার
তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে গেলে আপনি ঘি বা মাখন ব্যবহার করতে পারেন । ঘি মাখন এগুলো
হচ্ছে দুধের তৈরি । তাই এগুলোর স্বাদ মিষ্টি না হলেও, দেখা যাচ্ছে খানিকটা
মিষ্টির মতো । তাই যদি তরকারিতে ঘি বা মাখন ব্যবহার করেন, তাহলে দেখবেন ঝালের
পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে ।
ঝাল এবং মিষ্টি এই দুটা হচ্ছে বিপরীত স্বাদের খাবার । তাই ঝালে যখন চিনি ব্যবহার
করবেন তখন দেখবেন ঝাল অনেকটাই কমে গেছে বা নেই বললেই চলে । তাই যখন দেখবেন
তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে গেছে তখন আপনি চিনি, ঘি বা মাখন আপনার যেটা ইচ্ছা ব্যবহার
করতে পারেন । তাই আপনি আপনার স্বাদমত জিনিস ব্যবহার করতে পারেন ।
পানি ব্যবহার করতে পারেন
এমন অনেক তরকারি রয়েছে যেগুলোতে আপনি ঝাল কমানোর জন্য পানি ব্যবহার করতে পারেন
। এমন অনেক তরকারি রয়েছে যেগুলো হয়তো শুকনো বা কোন ঝোল নেই, সেক্ষেত্রে
ঝাল বেশি হয়ে গেছে সে তরকারিতে আপনি যদি পানি যোগ করে দেন তাহলে দেখবেন ঝাল
অনেকটাই কমে গেছে ।
আবার অনেক খাবার রয়েছে, যেগুলো দেখা যাচ্ছে আপনি মেরিনেট করে রেখেছেন সেগুলো
আপনার মনে হচ্ছে যে ঝাল বেশি হয়ে গেছে, সেখানে আপনি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে
পারেন । তাহলে দেখবেন ঝাল অনেকটাই কমে গেছে । তাই এ ধরনের ঝাল কমানোর জন্য আপনি
পানি ব্যবহার করতে পারেন ।
ঝাল কি সবাই খেতে পারে ?
ঝাল এমন একটি খাবার যেটি সবাই খেতে পারে । কিন্তু সবার খাওয়া উচিত নয় । যেমন,
ছোট বাচ্চারা তাদের ঝাল দেওয়া উচিত নয় বা তারা ঝাল খেতে পারে না । কারণ তাদের
দুধ খাওয়া মুখ । আবার দেখা যাচ্ছে যাদের একটু বয়স বেশি তাদের ঝাল কম খাওয়াই
ভালো । কারণ দেখা যাচ্ছে ঝাল খেলে পেটের সমস্যা হয় বা অনেক রকমের সমস্যা হয়ে
থাকে ।
আরও পড়ুনঃ কোন জাতীয় খাবারে ঝাল খেতে ভালো লাগে ?
আবার অনেকের অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে, যে সমস্যার কারণে ঝাল খেলে সমস্যা আরো
বেড়ে যায় । সেক্ষেত্রে আপনাকে পরিমাণমতো তরকারিতে ঝাল খেতে হবে । ঝাল কম খেলে
আপনার শরীর ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে । তাই ছোট বাচ্চা, বৃদ্ধ মানুষ এবং
অসুস্থ মানুষকে ঝাল খুবই কম খেতে দিতে হবে । অসুস্থ রোগীকে ডাক্তারও ঝাল খেতে
নিষেধ করে ।
কিছু ঝাল রেসিপি
কিছু কিছু এমন রেসিপি বা খাবার রয়েছে যেগুলো আপনাকে ঝাল করে খেতে হবে বা কম ঝাল
হলে খেতে ভালো লাগবে না । তাই খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ঝাল একটু বেশি খেয়ে
থাকে । যেমন ফুচকা, চটপটি, মাংসের তরকারি, এগুলোতে একটু ঝাল বেশি খেতে ভালো লাগে
। তবে চেষ্টা করতে হবে যাতে একটা পরিমাণ এর মধ্যে খাওয়া যায় ।
কারণ ঝাল বেশি খেলে দেখা যাচ্ছে অন্য সমস্যা আবার দেখা দিতে পারে । বিশেষ করে ঝাল
বেশি খেলে পেটের সমস্যা দেখা দেয় । অনেকের পেট খারাপ হয়ে যায় । তাই দেখা
যাচ্ছে ঝাল খেলেও একটা পরিমাণের মধ্যে খেতে হবে । এতে করে আমাদেরই শরীর সুস্থ
থাকবে । তাই যা করলে বা যা খেলে শরীর সুস্থ থাকবে আমাদেরকে সেভাবেই নিয়ম
মেনে চলতে হবে ।
শেষ কথা
তাই পরিশেষে বলতে পারি, ঝাল খেলে অনেক ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে বা অনেকের অনেক
রকমের অসুখ শরীরে বাসা বাঁধে । তাই আবার বলছি, ঝাল পরিমান মত খেতে হবে
। আর যদি তরকারিতে ঝাল বেশি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনি উপরোক্ত পদ্ধতি গুলো
ব্যবহার করতে পারেন । এতে করে দেখবেন আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ।
আমার যতটুকু জানা আছে বা আমার যতটুকু অভিজ্ঞতা রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমি
আর্টিকেলটা লেখার চেষ্টা করেছি । আর্টিকেলটা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানাবেন ।
সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন । সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url